Wednesday, June 1, 2022

বাংলা উচ্চারণের নিয়ম-২

উচ্চারণের নিয়ম

শুদ্ধ শব্দ উচ্চারিত হয় শুদ্ধ বর্ণ উচ্চারণের মাধ্যমে। আগে শিখতে হয় বর্ণগুলোর সঠিক উচ্চারণ তা ওপর শিখতে হয় শব্দের উচ্চারণ। অবশ্যই মনে রাখতে হয়, বর্ণমালায় অবস্থানরত বর্ণ ও শব্দে অবস্থানরত বর্ণের উচ্চারণ এক রকম নয়। বর্ণ শব্দে স্থান নেয় স্বরচিহ্ন ও ব্যঞ্জনচিহ্ন যোগে। তাই বর্ণের নিজস্ব উচ্চারণ থাকে না। যেমন: কলম-কলোম, কবি-কোবি, সমাজ-শমাজ, শ্রমিক-স্রোমিক। আবার সংস্কৃত শব্দের বাংলা বানান গ্রহণ করলেও উচ্চারণ গ্রহণ করে না। যেমন: স্বাগতম (বাংলা)-সোয়াগাতম (সংস্কৃত)। আবার বিদেশি শব্দ বাংলায় অবস্থান করলেও তাদের বানান ও উচ্চারণ বাংলা বানান গ্রহণ করে না। যেমন: চকোলেট-চকলেট, হসপিটাল-হাসপাতাল, রাসূল-রসুল, নূন/Noon-নুন। তবে উচ্চারণের জন্য কিছু নিয়ম অনুসরণ করা দরকার। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ/ও-এর উচ্চারণ পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। 

৩১. বিসর্গ ‘ঃ’ ‘খ’-এর পরে থাকলে ক্+খ উচ্চারিত হয়। যেমন : দুঃখ (দুক্খো)।

৩২. বিসর্গ ‘ঃ’ যে বর্ণের আগে থাকে সেই বর্ণকে দ্বিত্ব উচ্চারণ করতে হয়। যেমন: অতঃপর (অতপপর), নিঃশেষ (নিশশেশ), দুঃসময়, দুঃসাহস, অন্তঃসার ইত্যাদি।

৩৩. সন্ধিজাত শব্দের বানানে ‘অ/ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন : সজ্জন (সজজোন), নিরন্ন (নিরন্নো), শয়ন (শয়োন), দুরন্ত (দুরোন্তো)।

৩৪. সমাসবদ্ধ শব্দের মাঝে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: পথচারী (পথোচারী), হিতকর, বোধগম্য, জনগণ (জনোগণ), ক্ষণসময়, বনবাসী, ধনপতি। কিছু ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন : রাজপুত্র (রাজপুতত্রো), মেঘদূত, মেঘনাদ।

৩৫. উপসর্গজাত নাবোধক শব্দে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘অ’ উচ্চারিত হয়। যেমন : অকাল, অদৃশ্য।

৩৬. তদ্ধিত প্রত্যয়জাত শব্দের মাঝে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় (অক) ‘অ’ উচ্চারিত হয়। যেমন: ঢোলক, মড়ক, টনক, বৈঠক ইত্যাদি।

৩৭. এমন কিছু তিন বর্ণযুক্ত শব্দে মাঝের বর্ণে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: যতন (যতোন), কলস, কলম, কাজল, পাগল, আদর, ছোবল ইত্যাদি। আবার এর ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন : অমর, অনড়, অটল, অচল, অজয়, সরস, সবল, সজল।

৩৮. রেফযুক্ত বর্ণে আগের ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: পর্যন্ত (পোর্যোনতো), পর্যায় (পোর্যায়), চর্যাপদ, ঐশ্বর্য, সৌন্দর্য, আশ্চর্য, সূর্য, কার্য, কর্ম, ধর্ম, গাম্ভীর্য, কর্তব্য, কর্তৃপক্ষ, প্রবর্তন, মর্যাদা। আবার এর ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন: গর্জন, বর্জন।

৩৯. য-ফলাযুক্ত বর্ণ কখনো উচ্চারিত হয় না আবার কখনো উচ্চারিত হয় আবার কখনো দ্বিত্ব হয়। যেমন:

ক) অনুচ্চারিত : জ্যোতি, জ্যৈষ্ঠ।

খ) এ্যা উচ্চারণ : ব্যয়, ত্যাগ, ব্যাগ।

গ) দ্বিত্ব উচ্চারণ : পদ্য (পোদদো), জন্য (জোননো), শস্য (শোশশো)।

৪০. ক্ষ-যুক্ত শব্দে আগের বর্ণ ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: অক্ষ (ওকখো), বক্ষ (বোকখো), লক্ষ (লোকখো, রক্ষা (রোকখা), পক্ষ (পোকখো)।

৪১. য-ফলাযুক্ত শব্দে আগের বর্ণ ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: অন্য (ওননো), অন্যতম (ওননোতমো), গদ্য (গোদদো), পদ্য (পোদদো), কথ্য (কোতথো), সত্য (শোৎতো), কন্যা (কোননা), বন্যা (বোননা), কল্যাণ (কোললান), শয্যা (শোজজা), সহ্য (শোজঝো), কাব্য (কাববো), বন্য (বননো), পণ্য (পোননো), জন্য (জোননো), শস্য  শোসসো), মধ্য (মোদধো), তথ্য (তোতথো)।

৪২. বিশেষণ থেকে বিশেষ্য শব্দে য-ফলাযুক্ত শব্দে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’+দ্বিত্ব উচ্চারণ হয়। যেমন: দীন-দৈন্য (দোইননো), বিচিত্র-বৈচিত্র্য (বোইচিৎত্রো), বিশিষ্ট-বৈশিষ্ট্য (বোইশিশটো)।

৪৩. ‘সম’ উপসর্গযুক্ত ‘স’ হয় তাহলে ‘স’ সব সময় ‘অ’ উচ্চারিত হয়। যেমন: সমিতি, সমুদয়, সমুদ্র, সম্পূর্ণ, সমৃদ্ধি, সংখ্যা।

৪৪. ‘স’ যদি সহিত অর্থে ব্যবহৃত হয় তাহলে ধ্বনিটির উচ্চারণ হবে ‘অ’ এর মতো। যেমন: সঠিক, সচিত্র, সবিনয়, সজীব, সক্ষম।

৪৫. যুক্তবর্ণের শেষ বর্ণে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: মন্দ (মোনদো), উত্তর (উৎতোর), মুগ্ধ, আমসত্ত্ব, সুন্দর, সৌন্দর্য, বিচক্ষণ, স্পষ্ট, স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্ন, উপযুক্ত, রক্ষা, যন্ত্র, সপ্তম, ভুক্ত, সূর্য, আন্ত, স্তম্ভ, রঞ্জক, শক্তি, বিশিষ্ট্য, চিহ্ন, পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, সিদ্ধান্ত, ছাত্র, অল্প, ব্যক্ত, কাব্যগ্রন্থ, পক্ক ইত্যাদি।

৪৬. ঐ, ঔ, ং, ঃ, ঋ যুক্ত বর্ণের পরের বর্ণ ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: তৈল, বৈধ, সৌর, যৌথ, সৌধ, দুঃখ, তৃণ, ঘৃণ ইত্যাদি।

৪৭. ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যাবাচক শব্দের শেষবর্ণে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: এগার (এগারো), বার (বারো), চৌদ্দ (চৌদদো), পনের (পোনেরো), ষোল (শোলো), সতের (শোতেরো), আঠার (আঠারো) ইত্যাদি। বর্তমানে এসব শব্দ ‘ও’ দিয়ে লেখা হচ্ছে।

৪৮. র-ফলা থাকলে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: স্রষ্টা (স্রোশটা), শ্রবণ (স্রোবোন), প্রচুর, প্রতীক, প্রস্তাব ইত্যাদি।

৪৯. অনেক সময় বিসর্গযুক্ত র্বণ আবেগ জাতীয় ধ্বনি হ-এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমন: আঃ (আহ), উঃ (উহ), ওঃ (ওহ) ইত্যাদি।

৫০. শব্দের শেষে হ বা ঢ় থাকলে ‘অ’ ধ্বনি সব সময় ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: দেহ (দেহো), বিবাহ (বিবাহো), কলহ (কলোহো), স্নেহ (স্নেহো), গূঢ় (গুঢ়ো), গাঢ় (গাঢ়ো), দৃঢ় (দৃঢ়ো) ইত্যাদি। তবে ব্যতিক্রম রয়েছে। যেমন : আষাঢ় (আশাঢ়)।

৫১. ঙ অর্ধস্বরবর্ণ না তাই এর উচ্চারণ ‘উয়/উঁয়ো/উমা না হয়ে হবে ব্যঞ্জনঘেষা উঙ হবে। ঙ শব্দের শুরুতে বসে না। ঙ ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহৃত ও উচ্চারিত হতে পারে। যেমন: ঙ-এর উচ্চারণ উঙো কিন্তু ব্যবহারিক উচ্চারণ ভিন্ন ভিন্ন হয়। যেমন: অং-বং, আং-বাংলা, আঙা- বাঙালি, অঙি-রঙিন ইত্যাদি।

* ঙ অনেক সময় ঙা/ঙে/ঙু/অং উচ্চারিত হয়। যেমন: স্বরকার যুক্ত বর্ণে ঙ-বাঙালি, রঙের, আঙুর।

* স্বরকারহীন বর্ণে ঙ ধ্বনি ‘ং’ এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমন : বাংলা, অহংকার, বংগবন্ধু, অংগিকার, সংগি।

* ঙ-এর পরে প্রত্যয়, বিভক্তি বা কারচিহ্ন যোগ হলে ‘অঙ’ উচ্চারিত হয়। যেমন: বাংলা-বাঙালি, রং-রঙিন, রঙের, আঙুর।

* সন্ধিযুক্ত শব্দে ‘ঙ’ ধ্বনি ‘অং’ উচ্চারিত হয়। যেমন: অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত।

* ‘ঙ’ ধ্বনি শব্দের শেষে অং/ওং, ইং, আং উচ্চারণ হয়। যেমন: রং, ঢং, সং, এবং, চোং, স্বয়ং, শিং, সুতরাং।

৫২. সংস্কৃত শব্দে ‘জ’ উচ্চারণ সংক্ষিপ্ত আর ‘য’ উচ্চারণ সামান্য দীর্ঘ তবে বাংলায় এদের উচ্চারণ এক রকম। যেমন: জড়, জীবন, যতি, যম, যাত্রা। ‘য’ উচ্চারণ ‘জ’-এর মতো। য-ফলা হলো য-এর সংক্ষিপ্তরূপ।

* য-ফলা প্রথমে এ্যা-কার হয়। যেমন: জ্যান্ত আর মাঝে ও শেষে দ্বিত্ব হয়। যেমন: কল্যাণ (কোললান) ও পদ্য (পোদদো)।

* সমাপিকা ক্রিয়া হলে য-ফলা প্রথমে এ্যা-কার হয় উচ্চারিত হয়। যেমন : লেখে (ল্যাখে)।

* বিদেশি শব্দে ‘জ’ বসে জ উচ্চারিত হয়। যেমন: গজল, মজবুত, দরজা, কাগজ, আজান, ওজু, আজাব।

৫৩. ব হলো প-বর্গের তৃতীয় বর্ণ। প-বর্গীয় ব'কে বর্গীয় ‘ব’ বলে। ‘ব’ ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহৃত ও উচ্চারিত হতে পারে। যেমন :

* ব-এর স্বাভাবিক বানানে উচ্চারণ: আব্বা, জব্বার, উদ্বোধন, উদ্বিগ্ন, উদ্বাস্তু, উদ্বৃত্ত, দিগ্বলয়, দিগ্বিজয়, লম্বা, বিম্ব, সম্বোধন।

* ব-এর দ্বিত্ব উচ্চারণ। যেমন : বিশ্ব, নিজস্ব।

* বর্গীয় ‘ব’ যদি ব-ফলা হিসেবে ব্যবহৃত হয় তাহলে ‘ব’ উচ্চারিত হয়। যেমন: বিশ্ব, বাল্ব, উদ্বেল।

* অন্তঃস্থ ব’কে সংস্কৃতে ‘ওয়া’র মতো উচ্চারিত হয় কিন্তু বাংলায় এর কোন উচ্চারণ নাই। যেমন: স্বাধীন (সোয়াধিন), স্বাগতম (সুয়াগতম)।

* সংস্কৃত ব-ফলা যুক্তবর্ণ কখনো অনুচ্চারিত থাকে। যেমন: ধ্বনি, জ্বালা, স্বদেশ, স্বাগতম, তত্ত্ব, উজ্জ্বল। ব-ফলা যুক্তবর্ণ কখনো দ্বিত্ব উচ্চারিত হয়। যেমন: কবিত্ব, বিশ্ব।

* উদ-এর সঙ্গে ‘ব’ থাকলে ‘ব’ উচ্চারিত হয়। যেমন: উদ্বিগ্ন, উদ্বেল, উদ্বৃত্ত, উদ্বোধন ইত্যাদি।

৫৪. ‘ম’ হলো প-বর্গের পঞ্চম বর্ণ। ‘ম’ সরাসরি বসে আবার ম-ফলা হিসেবে বসে। ‘ম’ ভিন্ন ভিন্নভাবে ব্যবহৃত ও উচ্চারিত হতে পারে।

* দ্বিতীয় বর্ণে ‘উ/উ/ও ধ্বনি থাকলে ‘ও’ উচ্চারিত হয়। যেমন: মউ (মোউ), মলি (মোলি), মধু (মোধু)।

* ম-ফলাযুক্ত বানানে ‘ম’ অনুচ্চারিত থাকে। যেমন: স্মরণ, স্মৃতি, স্মারক।

* ম-ফলাযুক্ত বানানে ম উচ্চারিত হয়। যেমন: গুল্ম, জন্ম, সম্মান, মৃন্ময়, উন্মাদ, কুষ্মাণ্ড, সুস্মিতা, কাশ্মির।

* ম-ফলাযুক্ত বানানে ‘ম’ লিখিত বর্ণের দ্বিত্ব উচ্চারিত হয়। যেমন: আত্ম, আত্মা, ছদ্ম, পদ্ম, রশ্মি, বিস্ময়।

৫৫. ঋ-কার যুক্ত বর্ণ দ্বিত্ব উচ্চারণ না হয়ে এককভাবে উচ্চারিত হয়। যেমন: আবৃত্তি>আ-বৃৎ-তি /আববৃৎতি নয়। প্রকৃতি—প্র-কৃ-তি। মাতৃভূমি—মা-তৃ-ভূমি, অমৃত, অদৃষ্ট, অদৃশ্য, আকৃষ্ট প্রকৃতি, প্রাকৃতিক, মাতৃভাষা। আবার দ্বিত্ব উচ্চারিত হচ্ছে। যেমন: মসৃণ (মোসসৃন), আদৃত (আদদৃতো)।

* অন্যবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে ‘ঋ’ উচ্চারতি হয় র-ফলার মতো। যেমন: হৃদয় (রিদয়/হ্রিদয়), আদৃত (আদ্রিত), খ্রিস্টাব্দ (খৃস্টাব্দ), বিকৃত (বিক্রিত)।

* সংস্কৃত ব্যাকরণবিদগণ ঋ’কে দীর্ঘ উচ্চারণ ধরে ঋযুক্ত অনেক বানানকে ঈ-কার দিয়ে লিখেছেন। যেমন: গ্রীষ্ম (গ্রিশশো), তীক্ষ্ণ (তিখনো)।

৫৫. সংস্কৃতি ‘য়’ নাই। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর য-এর নিচে বিন্দু বসিয়ে তৈরি করলেন ‘য়’ যা ‘অ’ ধ্বনির মতো না। সংস্কৃতের ‘নিযম’ বাংলা হলো ‘নিয়ম’। প্রাকৃত বা চর্যাপদেও ‘য়/য়া’ নাই আছে ‘অ/আ’।

* ‘য়া’ অনেক সময় ‘আ’ ধ্বনির মতো উচ্চারিত হয়। যেমন : খাওয়া (খাওআ)।

* ‘য়’ উচ্চারণের সময় ‘অ/আ’ উচ্চারিত হয়। সময় (সমঅয়), মায়া (মায়আ), কায়া (কায়আ)।য়-আ টেনে টেনে উচ্চারণ করতে হয়, কায়-আ উচ্চারিত হবে না। আগে ‘য়’ দিয়ে কিছু বিদেশি শব্দ শুরু হত কিন্তু এখন ‘ইউ’ দিয়ে হয়। যেমন: য়ুরোপ (ইউরোপ), য়ুসুফ (ইউসুফ), য়ুনানি (ইউনানি) ইত্যাদি।

* ‘য়ে’ সব সময় ‘এ’ উচ্চারিত হয়। যেমন: দিয়ে (দিএ), নিয়ে (নিএ), মায়ে (মাএ-মায়-এ হবে না)। শব্দের শেষে স্বরবর্ণ (স্বরচিহ্ন নয়) থাকলে বিভক্তি ‘এর’ পরিবর্তে ‘য়ের’ বসে। কিন্তু উচ্চারিত হবে ‘এর’। যেমন: বইয়ের, বউয়ের, ভাইয়ের-ভায়ের, মায়ের।

৫৬. বাংলা শব্দে ‘শ, ষ, স’ বর্ণের সঠিক ব্যবহার বিধিকে ষত্ববিধান বলে। ‘শ/ষ/স’ তিনটি বর্ণের উচ্চারণ বর্ণমালায় একই। তিনটি নাম ভিন্ন। যেমন : তালব্য শ-শাপলা/শ্রম, মূর্ধন্য শ-ষাঁড় আর দন্ত শ-সিংহ/স্রষ্টা। অনেক সময় ‘স’-এর উচ্চারণ ছ-এর মতো না হয়ে হয় ছ-এর মাঝা মাঝি। তবে শব্দে বসলে স বা শ-এর মতো উচ্চারিত হয়। যেমন: 

* ‘শ’ মুক্ত অবস্থায় সব সময় শ উচ্চারিত হয়। যেমন: শক্তি (শোকতি), শহিদ (শোহিদ), শান্ত (শানতো), শিক্ষা (শিকখা), শিতল (শিতোল), শূন্য (শুননো), শেষ (শেশ), শৈশব (শোইশব) ইত্যাদি।

No comments:

Post a Comment

Flow Chart Exercise